রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

ডেনমার্কের মসজিদে হামলা

ডেনমার্ক-জার্মানি সীমান্তে গত ২২ জানুয়ারি শুক্রবার ডেনিশ-তুর্কিদের পরিচালিত একটি মসজিদের দেয়ালে আপত্তিকর লেখা লেখেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দিয়ানেত বিভাগের প্রধান আলী ইরবাস। টুইটবার্তায় তিনি বলেন, দিন দিন যেভাবে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালাচ্ছে একটি বর্ণবাদী গ্রুপ, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা উচিত। খবর আনাদোলুর। ডেনমার্কে স্থানীয় সময় সেদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় জার্মান সীমান্তে অবস্থিত ওই মসজিদে হামলা চালায় একদল উগ্রবাদী ও বর্ণবাদী দুর্বৃত্ত। তারা মসজিদের দেয়ালে আপত্তিকর কথা লেখে।
মসজিদটি পরিচালনা করে আসছে ডেনিশ-টার্কিশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। হামলার বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
মসজিদ কমিটির প্রেসিডেন্ট হুরসিত টোকা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি আবেনরা মসজিদে নামায পড়তে আসেন। কিন্তু পরদিন শনিবার সকালে তিনি মসজিদে গিয়ে দেয়ালে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আপত্তিকর লেখা দেখতে পান।
করোনা ভাইরাসের কারণে মসজিদটি আংশিক বন্ধ রয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ দেয়ালে এ ধরনের আপত্তিকর লেখা সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করেছে। পুলিশ ওই এলাকার সারভাইল্যান্স ক্যামেরা পরীক্ষা ও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হুরসিত এ ঘটনার নিন্দা জানান এবং ওই আপত্তিকর লেখা মুছে ফেলা হয়েছে বলেও অবহিত করা হয়। ডেনমার্কের চরমপন্থীরা প্রায়ই কুরআন পোড়ানোসহ বিভিন্ন বর্ণবাদী আচরণ করে থাকে বলে প্রকাশ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানসহ বিশ্বের মুসলিম নেতারা দেশটিতে এমন ইসলামবিদ্বেষের নিন্দা জানিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে মুসলিমরা সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু।
ডেনমার্ক একটি সুন্দর দেশ। মুসলিমরা অনেক দিন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। সবাই না হলেও ডেনমার্কে বসবাসকারী মুসলিমরা ইবাদত-বন্দেগি করেন। কুরআন অধ্যয়ন ভালোবাসেন। হিংসা-বিদ্বেষ পছন্দ করেন না। দীনের সৌন্দর্য অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেন মাত্র। তাঁদের শান্তিপূর্ণ ইবাদত-বন্দেগি এবং পবিত্র কুরআনচর্চায় কোনও গোষ্ঠী বাধা প্রদান করলে তা যেমন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হবে তেমনই তা হবে ডেনিশদের জন্য অমর্যাদাকর। আমরা দেশটিতে মুসলিমদের সৌহার্দপূর্ণ অধিবাস প্রত্যাশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ